×

Everyday: 10:00AM - 10:00PM

(+88) 01708500125

+8801708-500125

Email: care@hellodoctor.asia



× Home Our Doctors Blog Contact Us
+880-01708-500125
Everyday: 10:00AM - 10:00PM Email: care@hellodoctor.asia
Title Image

Blog

Home  /  Blog

কাদের ভাঙে থাইয়ের হাড়

ডাঃ নির্মালয় দেব
2019-01-28 10:48:30

হাসপাতালে শুয়ে মনোরমা দেবী ভাবছিলেন, পঁয়ষট্টি বছর বয়সে কেন তাকে অপারেশন থিয়েটারে যেতে হল। কেনই বা পড়ে গিয়ে তার ফিমারবোন (থাই-এর হাড়)-এর বল (হেড)টা ভেঙে গেল। ভাবছিলেন জীবনে কোনোদিন কারো ক্ষতি করেছেন বলে তো মনে পড়ে না। তাহলে………..

মনোরমাদেবী যতই পরিতাপ করুন, বাস্তব হল, বেশি বয়সী মহিলাদের পড়ে গিয়ে ফিমারবোনের হেড বা নেক ভেঙে যাওয়ার ঘটনা নেহাৎ কম নয়। পুরুষদেরও হয়। তবে পুরুষদের থেকে মহিলাদের সংখ্যাটা বেশি। প্রশ্ন উঠতে পারে, মহিলাদের কেন বেশি ভাঙে? কারণ, নিয়মিত শরীরচর্চা বা ব্যায়াম আমাদের দেশের মেয়েরা খুব বেশি করেন না। তাছাড়া মেনোপজের পর হাড় দুর্বল হয়ে যায়। আর সুষম আহার বা ব্যালান্স ডায়েট করা হয় না। তাই হাড় দুর্বল হয়ে যায়। ফলে পড়ে গেলে ফিমারের হেড বা নেক অংশেই বেশি আঘাত লাগে আর ওই জায়গাটা ভেঙে যায়।

চোট, আঘাত পেয়ে ব্যথা মানেই তো আর ভেঙে যাওয়া নয়। ভেঙে যাওয়ার কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ আছে, সেগুলো দেখে বুঝতে হয় আঘাত কতটা গুরুতর বা হাড় ভেঙেছে কি না।

  • উঠতে না পারা, দাঁড়াতে না পারা।
  • কুঁচকিতে ব্যথা হওয়া।
  • আঘাত প্রাপ্ত পা মাটিতে ফেলতে না পারা।
  • থাইয়ের পাশে কালশিটে পড়ে যাওয়া।

একটা কথা বলে রাখা দরকার। নির্দিষ্ট চিকিৎসার আগে প্রাথমিক চিকিৎসাটাও অত্যন্ত জরুরি। চোট লাগার পর রোগীকে সাবধানে তুলে শুইয়ে দিতে হবে। হাঁটুর তলায় বালিশ দিয়ে দিতে হবে। রোগীকে জিঞ্জেস করতে হবে যে অন্য কোনো কষ্ট হচ্ছে কি না। দেরি না করে রোগী নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। নিতে হবে অস্থি-শল্য চিকিৎসকের পরামর্শ।

এখানে আরও একটা কথা মনে রাখা দরকার।সাধারণত বয়স্কদের পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙার ঘটনা বেশি ঘটা। সেখানে হাড় ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কিছু উপসর্গও দেখা দিতে পারে। অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে সেগুলোর দিকে নজর রাখতে হবে। এগুলো মধ্যে রয়েছে---

  • অসংলগ্ন কথা বলা।
  • মাথার যন্ত্রণা।
  • বমি হওয়া।
  • হাঁফ ধরা।
  • বুকে ব্যথা।
  • পা অসাড় হয়ে যাওয়া।
  • পায়ের আঙুল নাড়াতে না পারা।
  • রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।

এই লক্ষণগুলো থাকলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সম্ভব হলে উন্নত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, যেখানে সব ধরনের চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া সম্ভব।

ফিমারবোনের হেড বা নেক ভাঙলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সার্জারি করা হয়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে জীবনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে দিতে চান। এটা সার্জারি ছাড়া সম্ভব নয়। তবে যেহেতু বয়স্করোগী তাই কিছু সমস্যাও থাকে, যেমন হার্টের সমস্যা, থাইরয়েডের সমস্যা বা ডায়াবেটিসের সমস্যা। সেজন্য এই ধরনের রোগীর সার্জারি উন্নতমানের হাসপাতালে করাই যুক্তযুক্ত। দেখা গেছে, নব্বই শতাংশ ক্ষেত্রে সার্জারির পর সাফাল্য আসে। সার্জারি তো হল, এর পরের কাজটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হল ফিজিওথেরাপি বা রিহ্যাবিলিটেশন। রিহ্যাব ঠিকমতো না হলে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

এবার আসা যাক প্রিভেনশন বা প্রতিরোধের বিষয়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি সঙ্গে সঙ্গে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে গেছে। ফলে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা সারা বিশ্বেই অনেকটা বেড়ে গেছে। বয়স্ক মানুষদের নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে রয়েছে হাঁটাচলার সমস্যা। এই দুটো কারণের জন্য বয়স্কদের পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে নিয়ম করে। ফলে হাড় ভাঙার সংখ্যাও বেড়ে গেছে আগের থেকে অনেক বেশি। এছাড়া পার্কিনসনস, ডায়াবেটিস, সিজার ডিসঅর্ডারের রোগীদের পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেই থাকে।

বয়ষ্ক মানুষদের নিয়ম মেনে হাঁটতে হবে। সঙ্গে দরকার নিয়মমাফিক ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজ, যোগব্যায়াম এবং সুষম খাবর। দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় তো কিছু পরিবর্তন আনা দরকার। যেমন দু’ঘরের মাঝে চৌকাঠনা রাখা, রাতেরবেলা বাথরুমের আলো জ্বালিয়ে রাখা। কোথাও বাসে চড়তে হলে ধীরে ধীরে উঠতে হবে। হাঁটার সময় পেছন দিক, ওপর বা নীচে না তাকানোই উচিত। হাঁটচলার সময় লাঠি ব্যবহার করলে ভালো। এই বিষয়গুলো যদি একটু মেনে চলা যায় তাহলে পড়ে যাওয়া সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।

আরও একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, তা হল এমার্জেন্সি নম্বরগুলো হাতের কাছে রাখা দরকার যাতে বিপদ দ্রুত সাহায্য পাওয়া যায়।

তবে অঘটন ঘটতেই পারে। আর সেটা ঘটলে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার কিছু নেই। কারণ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে ফিমারবোন ভাঙার পর সার্জারির মাধ্যমে দ্রুত সুস্থ হয়ে জীবনের মূল স্রোতে ফিরে আসা যায়। মনোরমা দেবী যেমন এখন পুরোপুরি সুস্থ।

সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন


Warning: Constant DB_USERNAME already defined in /www/wwwroot/hellodoctor.asia/footer.php on line 2

Warning: Constant DB_PASSWORD already defined in /www/wwwroot/hellodoctor.asia/footer.php on line 3

Warning: Constant DB_HOST already defined in /www/wwwroot/hellodoctor.asia/footer.php on line 4

Warning: Constant DB_NAME already defined in /www/wwwroot/hellodoctor.asia/footer.php on line 5