×

Everyday: 10:00AM - 10:00PM

(+88) 01708500125

+8801708-500125

Email: care@hellodoctor.asia



× Home Our Doctors Blog Contact Us
+880-01708-500125
Everyday: 10:00AM - 10:00PM Email: care@hellodoctor.asia
Title Image

Blog

Home  /  Blog

ছোটদের কীভাবে বইমুখী করে তুলবেন

হ্যালো ডাক্তার ব্লগ টিম
2019-02-02 12:59:01

অনেক বাচ্চা স্কুলে যাওয়ার নাম শুনলেই বিশাল কান্নাকাটি জুড়ে দেয়। মা অনেক বোঝালেও সে কিছুতেই স্কুলের গেটে পা দিতে চায় না। অথবা, স্কুলে গিয়ে মা কোনওরকমে বাচ্চাকে বেঞ্চিতে বসিয়ে দিলেন। কিন্তু তার পরেই মা চোখের আড়াল হতেই বাচ্চা সমানে কাঁদতে থাকে।

আসলে, স্কুলের পরিবেশে অনেক বাচ্চাই ঠিকমতো খাপ খাওয়াতে পারে না। স্কুলের বাড়ি, ছাত্রছাত্রীদের কলরবমুখ রতা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আনাগোনা, তাঁদের কথাবার্তা, বই পড়া সব মিলিয়ে স্কুলে যে পরিবেশ রচিত হয়, সেখানে কোনও কোনও বাচ্চা একরকম ভয়ই পেয়ে যায়। বিশেষ করে স্কুলের অচেনা পরিবেশে বাবা-মায়ের অনুপস্থিতি তাদের একরকম অসহায় করে তোলে। শিশুরা মুখে কিছু তো বলতে পারে না।। কান্নাকাটি করে তাদের প্রতিবাদের ভাষা জানাতে চেষ্টা করে।

অনেক বাচ্চাকে দেখা যায়, কান্নাকটি না করলেও চুপ করে এমনভাবে বসে থাকে যেন সে কোনও কথাই বলতে শেখেনি। পাশে বসা অন্য বাচ্চার সঙ্গেও কোনও কথা বলে না। শিক্ষিকা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ভয়ে আরও কুঁকড়ে যেতে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে তার মধ্যে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার সমস্যাটাও বেশি হয়।

তবে, কেউ কেউ আছে, কথা একটু কম বলে। খুব একটা হৈ-চৈ, দুষ্টুমি করা পছন্দ করে না। অন্তত ক্লাসে যতক্ষণ থাকে, পড়াশোনাতেই মনোযোগ দেয় বেশি।

অধিকাংশ বাচ্চাদের স্কুলে গিযে দিব্যি নিজেকে মানিয়ে নেয়। নতুন পরিবেশ, নতুন বই, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সর্বোপরি সমবয়সী বন্ধুরা যারা একেবারেই নতুন অথচ তাদের কাছে পুরনো হতে বেশি দেরি হয় না।

আসলে, শিশুদের সামাজিক মেলামেশা (সোশালাইজেশন) খুবই প্রয়োজন।

স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে শিশুকে চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে অবহিত করে তুলুন। তাকে পার্কে কিংবা খেলার মাঠে নিয়ে গিয়ে বল দিয়ে ছেড়ে দিন অথবা তার সঙ্গে ব্যাট-বল নিয়ে কিছু সময় খেলায় অংশ নিন, অন্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশা করতে দিন, পরিচয় করিয়ে দিন, রাস্তার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা-গাড়ি, মানুষ, গাছপালা ইত্যাদির সঙ্গে পরিচয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চার পঠনপাঠনও চলুক-কাকে কী বলে, তার বানান, উচ্চারণ দরকার। এ ধরনের শিক্ষায় বাচ্চার মানসিক প্রতিক্রিয়াটা কী হচ্ছে, তা-ও লক্ষ রাখতে হবে।

বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব বা অন্য ভাই-বোনেদের আনাগোনা শিশুর মানসিক গঠন সমৃদ্ধ করে। যে সমস্ত পরিবারে সামাজিক মেলামেশা রয়েছে, সেখানে শিশুরা দ্রূত চটপটে, সপ্রতিভ হয়ে উঠে।

একটি ঘটনা কথা মনে পড়ছে। শিশুটি স্কুলে যেতে ভীষণ কান্নাকাটি করে, বয়স ছয়। সঙ্গে বাবা এবং শিশুটির পিসেমশাই ও বড় পিসি। মা ক্যানসার সম্প্রতি মারা গিয়েছিলেন। খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। এ হেন ক্ষেত্রে সে তো অসহায় বোধ করবেই। ওকে বোঝানো হয়েছে, সে যখন বড় চাকরি করবে, তখনই মা আসবেন। এবার তার ভয়, বাবা যদি মায়ের মতো অমন করে চলে যায়। সে তাই বাবাকে একেবারে কাছছাড়া করতে চাইছে না। দিনের অধিকাংশ সময়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে। এতে শিশুটির বাবা পড়েছেন খুব মুশকিলে। তাঁর পুলিশের চাকরি। আর বাচ্চাটির স্কুলে যাওয়া? স্কুলের নাম শুনলেই কান্না।

বাচ্চাটিকে স্টাডি করে যা দেখা গেল—সে বুদ্ধির দিকে কোনও অংশে কম নয়। বাবাকে বলেছে, সে বড় হয়ে ডাক্তার হবে। এখনই সে অনেক ফুল-ফলের নাম জেনে ফেলেছে। বানান, হাতের লেখা—সবই ঠিক আছে। শুধু জীবনের ওই একটি ঘটনাই তাকে এই ছোট্র বয়সেই ওলট-পালট করে দিয়েছে।

সত্যি বলতে কি, বাচ্চাটির মায়ের স্থান কখনোই পূরণ হবার নয়। ভদ্রলোকের ওই দিদিই আপাতত ভরসা। তাঁকেই যা বলার বলা হল। বাচ্চাটিকে ওর মায়েরশোকটা অন্তত ভোলানো দরকার। শিশুটির অসহায়বোধ, ভয়—এগুলোও কাটিয়ে ওঠা দরকার। হয়তো একটু সময় নেবে।

সর্বোপরি দায়িত্ব বাবার। এখানে তাঁকেও শিশুটির প্রতি বেশি মনোযোগী হতে হবে।

শিশুদের উচ্চারণ প্রক্রিয়াকে ও হাতের লেখা

শিশুদের যে বয়সটায় পড়াশোনার সঙ্গে কোনও পরিচয় গড়ে ওঠেনি, তখনই শিশুর হাতে রঙিন ছবির বই ধরিয়ে দিন। নতুন জিনিস হাতে পেলে তা নেড়ে-চেড়ে দেখা মানুষের একটা জন্মগত অভ্যাস। আপনি বই খুলে পুড়লে শিশুও তা নকল করবে। আমি একবার একটি নিম্নবিত্ত শিশুর সংস্পর্শে এসেছিলাম। ওর বাবা আমাদের বাড়ির বাগান পরিষ্কার করত, শিশুটিকে বসিয়ে রেখে। শিশুটি ধীরে ধীরে কিন্তু আমার পড়ার ঘরে প্রধান অংশীদার হয়ে পড়েছিল। আমি চেয়ারে বসে বই পড়তাম, লিখতাম। একটু আড়চোখে লক্ষ করতাম, বাচ্চাটি কী করছে। একটা ছোট টেবিলে থাকত বাচ্চাদের রঙিন সব ছড়ার বই। দেখতাম, বাচ্চাট দিব্যি একটা চেয়ারে বসে পায়ের ওপর পা তুলে দিয়ে ঠিক বড়দের মতো ভঙ্গিমায় পাতা ওল্টাচ্ছে। বলতাম, তুই এই কবিতাটা বল তো। ওর বয়সটা চার-পাঁচ হলে কি হেবে, অক্ষর পরিচয় তখনো ঘটেনি---তাই বলত—তুমি বলো। আমি যখন কবিতাটা পরিষ্কার করে আবৃত্তি করার মতো করে পড়তাম, বাচ্চাটি আমার সঙ্গে সঙ্গে দিব্যি আধো গলায় উচ্চারণ করত। ক’দিন বেশ চার লাইন কবিতা মুখস্থ করে ফেলেছিল।

আমরা অনেক সময় শিশুদের উচ্চারণের দিকে মনোযোগ দিই না। বলি, বড় হলে স্পষ্ট হবে। কিন্তু তা ঠিক নয়। অক্ষর পরিচয়ের আগে থেকে কবিতা মুখস্ত করান। সঙ্গে ধীরে ধীরে অক্ষর-জ্ঞান, অক্ষর পরিচয়ের সঙ্গে সঙ্গে লেখা শুরু। বয়স বাড়ার সঙ্গে, স্কুল যাওয়ার আগে থেকেই শিশুদের যাতে স্পষ্ট উচ্চারণ এবং হাতের লেখার অভ্যাস করানো যায়, তার দিকে লক্ষ রাখা দরকার।

বাচ্চাদের স্পষ্ট উচ্চারণ এবং হাতের লেখার মধ্যে দিয়ে ওদের বানান প্রক্রিয়াকেও উন্নতিহবে। বানানে কাঁচা হলে শিশুদের স্মৃতিশুক্তও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

জড়িয়ে জড়িয়ে হাতের লেখা, উচ্চারণে গন্ডগোল অর্থাৎ গলা দিয়ে প্রতিটি শব্দেরই অস্পষ্ট উচ্চারণ, যেটা বুঝতেই পারা যায় না, এমন থাকলে শিশুটি ভবিষ্যতে ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। ডিসলেক্সিয়া কোনও মানসিক রোগ নয়, তবে পড়াশোনায় প্রতিবন্ধকতা তো বটেই। তবে, এদের লেখায় ও উচ্চারণে বিশেষ ধরনের জড়তা পরিলক্ষিত হলেও, পারফরমিং আর্টস অর্থাৎ ছবি আঁকা, ভাস্কর্য, গান করা অথবা শাড়ির ওপর নকশা করা কিংবা অ্যানিমেশনের কাজে প্রচুর ব্যুৎপত্তি দেখা যায়।

আমার কাছে দুটি ছাত্র এসেছিল, ঠিক এমনই সব সমস্যা নিয়ে। একজনের উচ্চারণ তো বোঝাই দুষ্কর। কানেও শুনত কম। অতি কষ্টে খুব ধৈর্য নিয়ে এইচ.এস. পাশ করেছিল। এখন ছেলেটি অ্যানিমেশনের কাজে যুক্ত। ওর ঠাকুর গড়াতেও প্রচুর আগ্রহ। দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, অসুর ও সকলের বাহন এঁকে নিয়ে তারপর মাটি দিয়ে নিখুঁত মডেল তৈরি করতে পারে। সেসব না দেখলে তো বিশ্বাসই করা যায় না।

দ্বিতীয় জন কলেজে পার্ট ওয়ান পর্যন্ত এগিয়েছিল। ওর উচ্চারণ প্রক্রিয়া আর হাতের লেখা এতই জড়ানো যে সে-সব উদ্ধার করাই কঠিন। অথচ, যখন গান করে, তখন গানের কথার উচ্চারণ খারাপ নয়। ওর গান শোনা আর গান গাওয়াতেই আগ্রহ। প্রচুর ইচ্ছাশক্তির পরিচয় পেয়েছিল ওর মধ্যে।

আমাকে জানিয়েছিল, আর্টস সাবজেক্টের বড় বড় প্রশ্নের উত্তর লেখা ওর পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু, অবজেক্টিভ টাইপ প্রশ্নের উত্তর করায় কোনও অসুবিধা নেই।

একটি মানসিক জড়বুদ্ধির ছেলেকে দেখেছিলাম, কী মনোযোগ সহকারে তার নাচের শিক্ষিকার কাছে নাচের তালিম নিত। রবীন্দ্রসদনে ওর নাচের পারফরমেন্স দেখার মতো হয়েছিল।

প্রচুর ইচ্ছাশক্তি, ধের্য আর লেগে থাকার ক্ষমতা মানুষকে অনেক উঁচু স্তরে পৌঁছে দিতে পারে। কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডে ইনসেনটিভ্স থাকা চাই।

স্কুল কাউন্সেলিং

বাচ্চাদের পড়াশোনামুখী করে তোলা থেকে তাদের জীবনের নানা বিষয়গুলি নিয়ে অভিভাবকেরা যেমন গোড়া থেকেই সচেষ্ট হবেন এবং প্রয়োজনে কাউন্সেরিং সিস্টেমের মধ্যে আসবেন, ঠিক তেমনেই স্কুল প্রশাসনের পক্ষেও স্কুলে কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা থাকা সমান প্রয়োজনীয়।

পরিবারের পরেই স্কুলের স্থান। কিন্তু স্কুল নামক প্রতিষ্ঠান সামাজিক প্রতিষ্ঠানটিতে পারিবারিক আবহাওয়ার ছিটেফোঁটাই উপস্থিত থাকে। বৃহত্তর জীবনের পটভূমিকায় সেখানে শিশুকে বয়স অনুপাতে নিয়মশৃঙ্খলা, ঠিক সময়ে আসা-যাওয়া, বিভিন্ন আচরণগত পদক্ষেপ, মূল্যবোধ, সেক্স এডুকেশন, রিলেশনশিপ উইথ পেয়ার গ্রুপ, সোশালইজেশন ইত্যাদি অনেক কিছুই শিখতে হয়। এই সবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অবশ্যই পড়াশোনা।

কিন্তু, স্কুলের মতো নতুন পরিবেশে শিশুর পক্ষে এতকিছুর সঙ্গে ঠিকঠাক মানিয়ে চলা সম্ভব নাও হতে পারে। সে তখন বিভিন্ন সমস্যারও সম্মুখীন হয়। রোজকার স্কুলজীবনের প্রতি পদে সে অনেক কিছু ভুল করেও ফেলে। তার জন্য প্রতিনিয়ত শিক্ষিকার নিকট থেকে বকাবকিও শুনতে হয়। প্রচলিত প্রথার শাস্তিটাই তার জন্য বরাদ্দ থাকে।

অধিকাংশ সময়ে শিশুর সঙ্গদোষও দায়ী থাকে। সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশায় নানা আচরণগত ক্রুটিও পরিলক্ষিত হতে পারে। ধরা যাক, শিক্ষিকা ক্লাসে পড়ানোর সময় দু’টি মেয়ে প্রায়ই গল্প করে। এর মধ্যে একজনের হয়তো গল্প করতে চাইছে না, কিন্তু অন্যজন তাকে কথা বলার প্রলুদ্ধ করে চলেছে।শিক্ষিকা কিছু না দেখেই ওদের দুজনকে ক্লাস থেকে বার করে দিলেন। এতে ব্যাপারটা হয়ে যেতে পারে অন্য রকম। যে বাচ্চাটির পড়াশোনায় সত্যিই মন রয়েছে, সে মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাচ্চারা ঠিক অতটা নিজের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল নয়। তারা নিজের ভালোমন্দটা অত বুঝতে পারে না। মেয়েটি শিক্ষিকার নিকট সঠিক বিচার আশা করবে—এটাই স্বাভাবিক। অথচ এখানে ব্যাপারটা হয়ে গেল উল্টো। মেয়েটি বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকে।

অনেক সময় দেখা যায়, দুষ্ট হলেও কেউ কেউ পড়াশোনায় অপেক্ষাকৃত ভালো। অন্যদের খাতা-বই লুকিয়ে রাখে কিংবা চুরি করে। জিজ্ঞাসা করলে মিথ্যা বলে ও ভালোদের নানা ভাবে প্রতারিত করে।

এর সঙ্গে মিশে থাকে অ্যাটেনশান ডেফিসিয়েন্সি, টেনশন, নার্ভাসনেস ইন এগজামিনেশন, আন্ডার অ্যাচিভমেন্ট প্রবলেম (ফেল করা) ইত্যাদি। পরীক্ষার সময় ভুলে যাওয়া, বাওয়েল সিনড্রোম—এ সবও থাকে। জ্বর, পেটব্যথায় অভিভাবক ছোটেন ডাক্তারের কাছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। সর্ষের মধ্যে ভুত থাকার মতো অবস্থা।

বাচ্চাদের মধ্যে হাতের লেখা, উচ্চারণ প্রক্রিয়াকে সমস্যাও থাকে। আর এই সব তারণে বাচ্চারা ক্লাসে পিছিয়েই পড়ে। আসল কারণগুলো অজানাই থেকে যায়।

ঘটনা হল, একটি ছেলে অথবা একটি মেয়েকে ভালো অথবা খারাপ---যে কোনও একটা তকমা দিয়েই স্কুল তাদের ফাইনাল পরীক্ষার পরই জীবনের একটা নির্দিষ্ট অথবা অনির্দিষ্ট পথে ছেড়ে দেয়। পিছনে থেকে যায় শিক্ষার অনেক অজানা তথ্য। এই বিষয়টা নিয়ে ডাঃ পার্থ চট্রোপাধ্যায়ের একটি সুন্দর বই আছে, যা ছাত্রদের সঙ্গে হালকা চালে আলাপের ভঙ্গি তে লেখা। বইুট হল-‘ইস্কুলে না পড়ালে হয় না’ প্রকাশনা: দেশ, কলকাতা।

শিক্ষক-শিক্ষিকারা এদের প্রয়োজন কতটুকু পূরণ করতে পারেন? তাঁদের পক্ষে না করার বা না পারার যথেষ্ট কারণও আছে।

প্রসঙ্ত, ক্লাসে ছাত্রসংখ্যাধিক্য। প্রতিটি ছাত্রকে পৃথক ভাবে স্টাডি করা খুব কঠিন। অথচ, প্রতিটি ছাত্রেরআলাদা আলাদা চাহিদা, ইচ্চা-সংকল্প, পড়াশোনার সমস্যা বা অন্যান্য দিকের আচরণগত দোষ-ক্রটি থেকে যায়।

দ্বিতীয়ত, গ্লোবাল উন্নতির কাঠামোয় শিশুদের চিন্তাভাবনা, আচার-আচারণ, মানসিকতায় এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। একটি শিশু এখন নেট, কম্পিউটারে অভ্যস্ত, যা অতীতে ভাবাই যেত না। কিন্তু তাই বলে অতিরিক্ত কম্পিউটার-প্রীতি তাদের মধ্যে নেশা তৈরি করবে—সেটা তো ঠিক নয়।

এও ঠিক যে টিচিং এবং কাইন্সেলিং দুটি একসঙ্গে চলতে পারে না। কারণ আরো অনেক কারণ রয়েছে, যেগুলোর এখানে আলোচনা নিষ্প্রয়োজন। শুধু বলতে চাই, স্কুল কাউন্সেলিং-এর প্রয়োজনীয়তা আছে এবং খুব বেশি মাত্রায় আছে।

স্কুল কাউন্সেলিং বলতে শুধু কাউন্সেলরের কাজই বোঝায় না। শিক্ষক, অভিভাবক, কাউন্সেলর এবং অবশ্যই স্কুল প্রশাসন—সকলের মিলিত প্রচেষ্টা একটি ছাত্রের জীবনে উন্নতি ঘটাতে পারে।

মানুষ সত্য, তার শিশুকালে শেখা মূল্যবোধও সত্য। তার মনুষ্যত্বই তাকে জীবনের পথে একমাত্র চালনা করতে পারে। তাই কলেজ নয়, ইউনিভার্সিটি নয়, একমাত্র এবং উপযুক্ত স্কুল শিক্ষাই তার প্রয়োজন। স্কুলের গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই শিক্ষার দিকেই মনঃসংযোগ করা দরকার। যে চিন্তাটা আমাদের দেশে করা হয় না।

বিদেশে, বিশেষ করে আমেরিকায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা প্রশংসনীয়। ওখানে কাউন্সেলর শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন সমীক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে তাদের পড়াশোনা, মেধা, পরীক্ষায় সফলতা ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করে থাকেন। এরকমই একটি ইনস্টিটিউট হল উইলিয়াম অ্যালানসন হোয়াইট ইনস্টিটিউট, নিউইয়র্ক। ওখানে একসময় ছিলেন ডঃ মার্টিন কন, আমার গবেষণার সময় আমি তাঁর দ্বারা বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছিলাম। তাঁর নিকট আমি কৃতজ্ঞ থাকবে চিরকাল।

সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন


Warning: Constant DB_USERNAME already defined in /www/wwwroot/hellodoctor.asia/footer.php on line 2

Warning: Constant DB_PASSWORD already defined in /www/wwwroot/hellodoctor.asia/footer.php on line 3

Warning: Constant DB_HOST already defined in /www/wwwroot/hellodoctor.asia/footer.php on line 4

Warning: Constant DB_NAME already defined in /www/wwwroot/hellodoctor.asia/footer.php on line 5