×

Everyday: 10:00AM - 10:00PM

(+88) 01708500125

+8801708-500125

Email: care@hellodoctor.asia



× Home Our Doctors Blog Contact Us
+880-01708-500125
Everyday: 10:00AM - 10:00PM Email: care@hellodoctor.asia
Title Image

Blog

Home  /  Blog

প্রস্রাবে বারবার সংক্রমণ যথেষ্ট চিন্তার কারণ

ডাঃ সুদীপ্ত চক্রবর্তী
2019-05-18 13:38:16

কিডনি মানুষের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিডনিকে শরীরের ছাঁকনিও বলা হয়। শরীরের বর্জ্য যার মাধ্যমে বেরিয়ে আসে। বহুবিধ কারণে কিডনি সমস্যা দেখা সমস্যা দেখা যায়। যেমন সংক্রমণ, কিছু কিছু অটোইমিউন অসুখ, উচ্চ রক্তচাপ, ইউরিক অ্যাসিড, বেশি পরিমাণে ব্যথার ওষুধ খাওয়া, ডায়াবেটিস ইত্যাদি।

স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন জাগে, কিডনির অসুখ কি আগের থেকে বেড়েছে? এক কথায় বলা যায়, হ্যাঁ। তবে রোগটি বাড়ার সাথে মানুষ এখন আগের থেকে অনেক বেশি সচেতন হওয়ার এই রোগ সম্বন্ধে অনেক বেশি ধারণা তৈরি হয়েছে। এছাড়া রোগটির বৃদ্ধির পিছনে মূলত যে অসুখগুলো আছে সেই অসুখগুলোও বাড়ার ফলে কিডনি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

কিডনির অসুখ মানেই যে কিডনি বাদ চলে যাবে, তা নয়। কিডনিতে সংক্রমণ,পাথর, টিউমার, কিডনির রাস্তায় প্রতিবন্ধক—এই সব কিছুরই চিকিৎসা আছে। কিছু ক্ষেত্রে অপারেশন লাগে, কিছু ক্ষেত্রে মেডিসিনেই চিকিৎসা সম্ভব।

কিডনির সাধারণ অসুখ

কিডনির সংক্রমণ একটি সাধারণ অসুখ। ওষুধ খেলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভালো হয়ে যায়। বিয়ের পর মেয়েদের অনেক সময় এই ধরনের সংক্রমণ হতে দেখা যায়।

যদি সংক্রমণ বার বার ঘটে তা হলে কিডনি অথবা প্রস্রাবের রাস্তায় কোনো জন্মগত ক্রটি আছে কি না পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

কিডনির প্রদাহ আর একটি অসুখ। সাধারণ যাকে নেফ্রাইটিস বলেন। এটা বাচ্চাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। নেফ্রোটিক সিনড্রোমে খুব তাড়াতাড়ি রোগী ফুলে যায়। প্রস্রাবের সাথে প্রোটিন বেরিয়ে যায়। কারো কারো ক্ষেত্রে কিডনি খারাপ হবার সম্ভাবনা থাকে। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের সাহায্য চিকিৎসা করা হয়।

আই.জি.এ নেফ্রোপ্যাথি হলে প্রস্রাবের সাথে রক্ত বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। কিডনিঅথবা প্রস্রাবের পথে টিবি হলেও প্রস্রাবে রক্তপাত হতে পারে। যদি সংক্রমণ অথবা পাথরের কারণে প্রস্রাবে রক্তপাত হয় তাহলে ব্যথা-যন্ত্রণা হয়। আই.জি নেফ্রোপ্যাথিতে বেশির ভাগ সময় রক্তপাত কোনো যন্ত্রণা হয় না। টিউমার ও প্রস্টেটের অসুখের কারণে রক্ত বের হলেও যন্ত্রণা থাকে না।

পলিসিস্টিক ডিজিজের কারণেও কিডনি খারাপ হতে দেখা যায়। লক্ষণ বলতে ছোট ছোট আচিলের মতো সিস্ট বেড়ে ওঠে কিডনিতে।

অ্যাকিউট রেনাল ফেলিওর

সাময়িকভাবে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল বেরিয়ে গেলে, রক্তচাপ কমে গেলে, ম্যালেরিয়ো বা সাপের কামড়ে. ক্ষতিকর ওষুধের কারণে, শরীর থেকে প্রচুর রক্তপাতের ফলে দেখা দেয় অ্যাকিউট রেনাল ফেলিওর। অ্যাকিউট রেনাল ফেলিওরের সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা করলে রোগী সেরে যায়। খুব অল্প ক্ষেত্রে ডায়ালিসেসর প্রয়োজন পড়ে।

ক্রনিক রেনাল ফেলিওর

ডায়াবেটিস ও হাই ব্লাডপ্রেসার রোগীদের এই অসুখ দেখা যায়। বংশগত কিডনির অসুখে, প্রস্রাবের পথে পাথর থেকে বা প্রস্টেট গ্ল্যান্ড বাড়লে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা কমাবার ওষুধ খেলেও কিডনি অকেজো হয়ে পড়ে।

কখন দরকার ট্রান্সপ্ল্যান্ট

বা ডায়ালিসিস

যখন দুটো কিডনিই সম্পূর্ণভাবে অকেজো হয়ে পড়ে, ওষুধে সাড়া দেয় না তখনই দরকার পড়ে ডায়ালিসিস অথবা ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন।

অসুখের উপসর্গ

যদি কিডনিতে পাথর হয়, প্রস্রাবে সংক্রমণ হয় তবে ব্যথা হয়, প্রস্রাবে রক্ত আসে, বমি পায়। নেফ্রাইটিস হলে হাত, পা, মুখ ফুলে যায়, প্রস্রাব কম হয়। যে সব রোগীর ডায়াবেটিস ও ব্লাডপ্রেসারের কারণে কিডনি খারাপ হয় সেইসব রোগীদের প্রথম দিকে অল্প পা ফোলা, অবসাদ, রক্তাল্পতা, ঘুমঘুম ভাব, খিদে কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকে। রোগ বেড়ে গেলে শ্বাসকষ্ট, বমি, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। তখন হয়তো অনেকটাই দেরি হয়ে যাচ্ছে।

কিডনি ভালো রাখতে

কী করা দরকার

  • নিয়মিত ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং সেই কারণে প্রেসারের ওষুধ নিয়মিত খেতে হবে। সুগার থাকলে ওষুধপত্র ছাড়াও খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
  • ব্যথার ওষুধ যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। তার বদলে ব্যথা কমাতে গরম জলের সেঁক নিন।
  • সুষম এবং পরিমিত আহার করতে হবে।
  • ধূমপান বর্জন করতে হবে।
  • অত্যধিক প্রোটিন কিডনির পক্ষে ক্ষতিকারক। তাই চিকিৎসকের মতামত নিয়ে প্রোটিন খাবারও নিয়ন্ত্রণ করুন।
  • ডায়েটারি সোডিয়াম ও লবণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
  • কিডনি-রোগীদের রক্তে পটাশিয়ামে মাত্রা বেড়ে যায় তাই পটাশিয়াযুক্ত খাদ্য, বিভিন্ন ফল, কিছু কিছু সবজি, ডাল খেতে বারণ করা হয়। এক্ষেত্রে একজন সুদক্ষ ডায়াটিশিয়ানের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। কিডনির অসুখ বাড়ছে, তাই সাবধানে থাকুন।

তবে কিডনি খারাপ হওয়া মানেই জীবনের সব শেষ নয়। ডায়ালিসিস ও কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করেও দীর্ঘদিন সুস্থভঅবে বেঁচে থাকা যায়।


সৌজন্যে: ‘সুস্বাস্থ্য’ – কলকাতা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন


Warning: Constant DB_USERNAME already defined in /www/wwwroot/hellodoctor.asia/footer.php on line 2

Warning: Constant DB_PASSWORD already defined in /www/wwwroot/hellodoctor.asia/footer.php on line 3

Warning: Constant DB_HOST already defined in /www/wwwroot/hellodoctor.asia/footer.php on line 4

Warning: Constant DB_NAME already defined in /www/wwwroot/hellodoctor.asia/footer.php on line 5